দেশী মুরগী পালন পদ্ধতি

অফুরান্ত সম্ভাবনার দে আমাদের এই বাংলাদেশ।দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদা পুরণ করার লক্ষে অকলান্ত পরিশ্রম ও কাজ করে যাচ্ছে অনেক কৃষক ও খামারিরা।বাংলাদেশ কৃষি প্রদান দেশ এই দেশের ৮০ ভাগ লোক কৃষক।তাই তারা বাড়িতে বিভিন্ন ভাবে চাষাবাদ ও পশু-পাখি পালন করে থাকে।বাংলাদেশের গ্রাম এলাকায় প্রায় প্রতিটি পরিবার দেশী মুরগি পালন করে থাকে।দেশী মুরগি তদের  অধিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে।এদের উৎপাদন ক্ষমতা বিদেশী মুরগির চেয়ে কম। ব্যয়ও অতি নগণ্য ও আয় সেই তুলনাই বেশি।এদের মাংস ও ডিমের মূল্য বিদেশী মুরগীর তুলনায় অনেক সুস্বাদু।দেশী মুরগির বাচ্চা বয়সে মৃত্যুহারএকটু বেশি।মুরগি পালন করলে পরিবারের খাদ্য ও আমিষের চাহিদা পূরণ করা সম্ভাব।

দেশী মুরগী পালন পদ্ধতি

দেশি মুরগি পালন করবেন কেনঃ
এই দেশীয় পাখিগুলি পরিবারকে কয়েকটি ডিম এবং মাঝে মধ্যে ঘরের ব্যবহারের জন্য, বার্টার হিসাবে বা বিক্রয়ের জন্য সরবরাহ করে। তাদের মাংস এবং ডিম খাঁটি জাতের তুলনায় স্বাদযুক্ত এবং বেশি মজাদার বলে দাবি করা হয়। সুতরাং, তাদের ধীর বৃদ্ধি এবং ছোট আকার সত্ত্বেও, তারা আরও ব্যয়বহুল। পূর্ণ আকার (১-১.৫ কিলোগ্রাম) পেতে তাদের এক বছর সময় লাগে। দেশি মুরগি ১ বছরে ৩০-৫০ টি ডিম দেয়। ডিমগুলি ছোট ।দেশি মুরগি ডিম ও গোশত পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে। অল্প টাকা বিনিয়োগ করে অধিক আয় করা যায়। মুরগির বিষ্ঠা দিয়ে জৈব সারের তৈরী করা যায়। দেশি মুরগি পোকা-মাকড় খেয়ে তা দমন করতে সহায়তা করে। বাজার সম্ভাব স্থানীয় বাজার ছাড়াও বড় বড় হাট-বাজারে মুরগি বিক্রি করা যায়। মুরগির ডিম প্রতিবেশীদের কাছে, স্থানীয় দোকানে বা বাজারে পাইকারি বা খুচরা বিক্রি করা যায়। এছাড়া থানা সদরের হোটেলগুলোতেও ডিম বিক্রি করা যায়।

খাবারঃ
  বাড়ির প্রতিদিনের বাড়তি বা বাসী খাদ্য যেমন ফেলে দেওয়া ভাত, তরকারি, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গম, ধান, পোকামাকড়, শাক সবজির ফেলে দেওয়া অংশ, ঘাস, লাতা পাতা, কাঁকর, পাথর কুচি ইত্যাদি মুরগি কুড়িয়ে খায়।

পরিচর্যাঃ
দেশি মুরগি পরিচর্যার জন্য সময় বা লোকজনের তেমন দরকার পড়ে না। তারপরও কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয়। সকালে মুরগির ঘর খুলে কিছু খাবার দিতে হবে। সন্ধ্যায় মুরগি ঘরে ওঠার আগে আবার কিছু খাবার দিতে হবে। ঘরে উঠলে দরজা বন্ধ করে দিতে হবে।মুরগির পায়খানা ঘরের মেঝেতে যেন লেপ্টে না যায় সেজন্য ঘরের মেঝেতে ধানের তুষ, কাঠের গুঁড়া ২.৫ সে.মি. (১ ইঞ্চি) পুরু করে বিছাতে হবে। পায়খানা জমতে জমতে শক্ত জমাট বেঁধে গেলে বারবার তা উলট-পালট করে দিতে হবে এবং কিছুদিন পর পর পরিষ্কার করতে হবে। এ পদ্ধতিতে দেশি মোরগ পালন করা গেলে প্রায় তেমন কোন খরচ ছাড়াই ভাল একটা মুনাফা পাওয়া যাবে।

দেশীয় মুরগির উন্নতি করার জন্য কিছু কৌশলঃ
সরকারী ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পাশাপাশি কিছু বেসরকারী ব্যক্তি দেশি মুরগির উন্নতির জন্য কিছু কৌশল অবলম্বন করেছে। এই প্রোগ্রামগুলি পৌঁছেছে এমন বেশিরভাগ গ্রামে, নিম্নোক্ত কৌশলগুলি ব্যবহার করে রড আইল্যান্ড, প্লাইমাথ রক, নিউ হ্যাম্পশায়ার অস্ট্রেল্প এবং ক্যান্টোনিজের মতো খাঁটি জাত এবং সাধারণ উদ্দেশ্যে বংশবৃদ্ধি সহ স্থানীয় মুরগি পেরিয়ে গ্রেডেড মুরগি উন্নত হয়েছে এবং ভাল পারফর্ম করেছে:

রোগ সমহ্যঃ

  • রাণীক্ষেত রোগ
  • গামবোরা রোগ
  • পুলোরাম রোগ
  • বসন্ত রোগ
  • ফাউল কলেরা রোগ
  • হিট স্ট্রোক রোগ
  • আমাশয় রোগ ইত্যাদি

 

রাণীক্ষেত রোগের লক্ষণ সমূহঃ-

  • সাদা চুনের মত পাতলা মল ত্যাগ করে।
  • ঘাড় বেঁকে যায়, কখনও কখনও একই স্থানে দাঁড়িয়ে চক্রাকারে ঘুরতে থাকে।
  • নাক দিয়ে সর্দি ও মুখ দিয়ে লালা ঝরে।
  • শ্বাস প্রশ্বাস দ্রুত হয় এবং হা করে নিঃশ্বাস নেয়।
  • মাথা নিচু ও চোখ বন্ধ করে ঝিমাতে থাকে।
  • মুরগী দূর্বল হয়ে ঠোঁট ও বুক মাটিতে লাগিয়ে বসে পড়ে।
  • মুরগী খাওয়া বন্ধ করে দেয়।

 

দেশি মুরগি পালন অনেক সহজ।দেশী মুরগী দুই ভাবে পালন করা যায়। যেমন,(১) সনাতন পদ্ধতি ও (২) আধুনিক পদ্ধতি বা উন্নত পদ্ধতি।

সনাতন পদ্ধতিতে দেশী মুরগী পালনঃ-
আমদের দেশে দেশি মুরগী বেশির ভাগ সনাতন পদ্ধতিতে পালন করা হয়।সনাতন পদ্ধতির মূল কৈশল হল অল্প পুজি সল্প আয়। আমাদের দেশের নারীরা এই সনাতন পদ্ধতিতে দেশি মুরগী পালন করে থাকে। এই চাষের প্রচালন থাকলেও অনেক অসুবিধা আছে।এই ভাবে মুরগি পালন করলে কম লাভ হয়। সনাতন পদ্ধতিতে  মুরগী পালন করলে মুরগীর উৎপাদন চক্রে সময় বেশি লাগে কম ডিম পাড়ে, কম বাচ্চা  ফোটে,বেশি রোগ বালাই দেখাদেয়, বাচ্চা মৃত্যু হয় ইত্যাদি সমস্যার সম্মুখে পরতে হয়।

সনাতন পদ্ধতির উৎপাদন চক্রঃ
একবার ডিম পাড়া থেকে শুরু করে পরবর্তি ডিম পাড়ার আগ পর্যন্ত সময় কালকে বুঝায়।উৎপাদন চক্রকে সাধারণত ৪ ভাগে ভাগ করা হয়- যেমন,

  • ডিম পাড়া – ১৮থেকে ২৪ দিন
  • ডিম কুচি বা তা – ২১ দিন
  • বাচ্চা পালন – ৯০-১০০ দিন
  • বিশ্রাম -১০-১৫ দিন

দেশি মুরগির উৎপাদন চক্র শেষ হতে প্রায় ১৪০-১৭০ দিন লেগেযায়

দুর্বল ব্যবস্থাপনাঃ

  • ডিম কুচি বা তা দিলে সঠিক সময় ও প্রয়োজন মত খাবার না দেওয়া।
  • দীর্ঘ দিন মা মুরগী কে বাচ্চা চরাতে দেওয়া।
  • সময় মত বাচ্চার টিকা ও ঔষধ প্রয়োগ করা

 


দেশী মুরগী পালন পদ্ধতি ,দেশী মুরগী পালন ,দেশী মুরগী ,সনাতন পদ্ধতিতে দেশী মুরগী পালন, আধুনিক পদ্ধতি বা উন্নত পদ্ধতি,উন্নত পদ্ধতি মুরগী পালন ,আধুনিক পদ্ধতি মুরগী পালন আধুনিক পদ্ধতি ,উন্নত পদ্ধতি ,দেশি মুরগি পালন করবেন কেন , দেশী মুরগী খাবার ,মুরগী পরিচর্যা , মুরগী পালনের নিয়োম , মুরগী রোগ , মুরগী রগ প্রতিকার ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *