পেয়ারার উপকারিতা ও অপকারিতা,পেয়ারার গুনাগুন

পেয়ারা হলো একরকমের সবুজ রঙের ছোট জাতীয় ফল। তবে অন্যান্য বর্ণের ও পেয়ারা দেখতে পাওয়া যায়। তার রং হয় লাল, এই পেয়ারাকে রেড আপেলও বলা হয়। পেয়ারার বৈজ্ঞানিক নাম Psidiun guajava। পৃথিবীতে প্রায় ১০০টিরও বেশি প্রজাতি পেয়ারার পাওয়া যায়। অনুমান করা হয় ১৭শ শতাব্দীতে এই পেয়ারা পাওয়া যায়। এটি একটি পুষ্টিকর ফল যাতে আছে ভিটামিন সি, ক্যারোটিনয়েডস, ফোলেট, পটাশিয়াম, আঁশ এবং ক্যালসিয়াম প্রভৃতিতে সমৃদ্ধ। একশ’ গ্রাম পেয়ারায় দুইশ’ মি.গ্রা. ভিটামনি সি আছে অর্থাৎ পেয়ারায় কমলার চেয়ে ৪গুণ বেশি ভিটামিন সি আছে।

রোগ প্রতিরোধে পেয়ারার রয়েছে অনেক গুণ। পেয়ারার বীজে রয়েছে ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ফাইবার। পেয়ারা পাতার রস ক্যান্সার প্রতিরোধী এবং সংক্রমণ, প্রদাহ, ব্যথা, জ্বর, ডায়াবেটিস, ডায়রিয়া ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।

পেয়ারার উপকারিতা ও অপকারিতা

পেয়ারার উপকারিতা:

স্বাদ, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে পেয়ারা খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পেয়ারা অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি এবং লাইকোপেন, যা সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পেয়ারায় রয়েছে চারটি আপেল ও চারটি কমলালেবুর সমান পুষ্টিগুণ। এবং এতে আছে প্রচুর পরিমাণ পানি, ফাইবার, ভিটামিন এ, বি, কে, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও খনিজ পদার্থ। পেয়ারা ভিটামিন সি–এর ভালো উৎস। এতে ২১১ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়। ভিটামিন সি মুখগহ্বর, দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখে।  তাছাড়া যে কোন ইনফেকশন থেকে পেয়ারা শরীরকে সুস্থ রাখে।

পেয়ারার বিশেষ পাঁচটি উপকারিতা আছে, যার মধ্যে রয়েছে (১)রোগ প্রতিরোধ,   (২)ক্যানসার প্রতিরোধ,  (৩)ডায়রিয়া রোধ, (৪)ডায়াবেটিস রোধ,  (৫)দৃষ্টিশক্তির জন্য,

পেয়ারার অপকারিতা:

অন্যান্য ফলের মতো পেয়ারাও স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। তবে অতিরিক্ত খাওয়া অনেক রোগের কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পেয়ারা ভালো, কিন্তু অতিরিক্ত খাওয়া হলে তা ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। পেয়ারায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই, যদি আপনি খুব বেশি পেয়ারা খান তবে তরল খাওয়ার পরিমাণ বাড়ান। আজ এই নিবন্ধে, আমরা আপনাকে পেয়ারার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বলব।

গর্ভবতী মহিলাদের বেশি খাওয়া: গর্ভবতী এবং স্তন্যদানকারী মহিলাদের এটি খুব বেশি খাওয়া উচিত নয়। এটি অতিরিক্ত গ্রহণে ফাইবার বাড়ে, যা হজমের সমস্যা সৃষ্টি করে।

ব্যাকটেরিয়া: অন্যান্য ফলের মতো পেয়ারাও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটায়। পেয়ারার ত্বক ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের জন্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল, বিশেষ করে যদি এটি ফাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই উপরের ত্বকে পেয়ারা খেলে ব্যাকটেরিয়ার উপদ্রব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

সর্দি-কাশির আশঙ্কা থাকে: যারা ঘন ঘন সর্দি-কাশিতে ভোগেন তাদের পেয়ারা এড়িয়ে চলতে হবে। পেয়ারা খুব ঠান্ডা। অতিরিক্ত সেবনে সর্দি-কাশি হতে পারে।

সুগার বেড়ে যায়: বেশি করে পেয়ারা খেলে আপনার রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর যেহেতু এতে কোনো প্রোটিন বা চর্বি নেই, তাই পেট ভরে পেয়ারা খেলেও কিছুক্ষণ পর দেখবেন আবার খিদে পাচ্ছে। কারণ শরীরে প্রোটিনের অভাব হয়।

স্বাস্থ্য সমস্যা: অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগলে পেয়ারা এড়িয়ে চলাই ভালো। পটাসিয়াম এবং ফাইবার রয়েছে। আপনার ডায়েটে এটি অন্তর্ভুক্ত করার আগে একজন চিকিত্সকের সাথে পরামর্শ করুন

পেয়ারার গুনাগুন

পেয়ারার গুনাগুন:

  • পেয়ারাতে গ্লুকোজের পরিমাণ কম থাকে আর তাই ওজন কমানোতে এটি বেশ ভাল একটি প্রতিষেধক।
  • পেয়ারা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সাথে লড়াই করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেয়ারা বেশ কাজ দেয়।
  • অ্যাজমা, স্কার্ভি, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ইত্যাদি অসুখের ক্ষেত্রেও পেয়ারা বেশ উপকারী ৷
  • পেয়ারা একটি ফাইবার জাতীয় ফল আর তাই এটি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় আর তাই কারো ঠিকমত পায়খানা না হলে পেয়ারা খেয়েই করতে পারেন আপনার সমস্যার সমাধান।
  • শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-সমৃদ্ধ পেয়ারা পাতার জুস গ্যাস্ট্রাইটিসের সমস্যায় উপকারী।
  • পেয়ারাতে ফাইবার এবং কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থাকার কারণে এটি খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে আর তাই ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুকি কিছুটা কম থাকে।
  • এতে যথেষ্ট পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ফলিক অ্যাসিড ও নিকোট্রিন অ্যাসিড ।
  • পেয়ারায় আছে ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স ।
  • বয়সের সঙ্গে জড়িত নানা রোগ যেমন: স্মৃতিভ্রংশ (আলঝেইমার), চোখে ছানি, আর্থরাইটিস বা হাঁটুব্যথা প্রতিরোধে সহায়তা করে।
  • পেয়ারাতে আছে ফলিক এসিড আর ফলিক এসিড একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য খুবই প্রয়োজন।সব গর্ভবতীদেরই ডাক্তাররা ফলিক এসিড দিয়ে থাকেন কারণ এটি বাচচার নার্ভাস সিস্টেমকে উন্নত করে। আর সেই সাথে এটি বাচচাদের নিউরোলোজিক ডিজঅর্ডার থেকে দুরে রাখে।
  • পেয়ারাতে আছে প্রচুর ভিটামিন সি এবং সাথে আয়রন যার কারণে এটি কফ দূরীকরণে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। কারো যদি কফ জমে যায় গলায় তাহলে সেক্ষেত্রে পেয়ারা খুব ভাল ওষুধ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *