প্রাইমারিতে চাকরি পাওয়ার উপায়

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এর অধিনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়ে থাকে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এই বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়ে থাকে এবং আমাদের ওয়েবসাইটে ও প্রকাশ করা হয়।

অনেকেই আছেন যারা পরীক্ষা দেবেন শুধু পরীক্ষা দেওয়ার জন্য, চাকরির জন্য নয়! তাই আপনি ভাবুন, হাজার নয়, একশো লোক নিলেও আমি সেই তালিকায় থাকব। তাহলে আপনার মনোবল আপনাকে অনেক দূর নিয়ে যাবে।

প্রাইমারিতে চাকরি পাওয়ার উপায়

প্রাইমারিতে চাকরি পাওয়ার প্রথম সর্থ হলো প্রস্তুতি নেওয়া। কিন্তু প্রস্তুতি নেওয়ার আগে আপনাকে পরীক্ষার মার্ক সম্পর্কে জানতে হবে। চলুন জেনে আসি প্রাইমারিতে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার নম্বর সম্পর্কে, বাংলায় ২০ নম্বর, বাংলা সাহিত্য ৩ নম্বর, বাংলা ব্যাকরণ ১৭ নম্বর, গণিত ২০ নম্বর, পাটিগণিত-৮/৯ নম্বর, বীজগণিত-৫/৬ নম্বর, জ্যামিতি-৫ নম্বর, ইংরেজি-২০ নম্বর, ইংরেজি- ২০ নম্বর, সাধারণ জ্ঞান- ২০ নম্বর, বাংলাদেশ ৭/৮ নম্বর, আন্তর্জাতিক- ৫/৬ নম্বর, সাম্প্রতিক ৫/৬ নম্বর, মোট ৮০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষার নম্বর থাকবে ৮০ এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বর থাকবে ২০।

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়ে থকে। তবে লিখিত পরীক্ষা নেয়া হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে। বাংলা, গণিত, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানের প্রতিটি বিষয় থেকে ২০টি করে মোট ৮০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন থাকবে তার সঠিক উত্তর দিতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১, প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। চারটি উত্তর ভুল হলেই কাটা যাবে ১ নম্বর।

প্রাথমিকে চাকরি পাওয়ার জন্য যা পড়তে হবে

বাংলা জোর দিতে হবেঃ অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড কর্তৃক প্রণীত ব্যাকরণ বইয়ের সকল অধ্যায় উদাহরণসহ ভালোভাবে পড়তে হবে। কবি-সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্ম ও জীবনী সম্পর্কে জানতে হবে। এসএসসি ও এইচএসসি বোর্ড বইয়ের লেখক পরিচিতি ও সাধারণ জ্ঞান বইয়ের সাহিত্যিক পরিচিত, বই পরিচিতি পড়লে সহায়ক হবে।

বিগত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ব্যাকরণ থেকে ভাষা, বর্ণ, শব্দ, সন্ধি বিচ্ছেদ, কারক, বিভক্তি, উপসর্গ, অনুসর্গ, ধাতু, সমাস, বানান শুদ্ধি, পারিভাষিক শব্দ, সমার্থক শব্দ, বিপরীত শব্দ, বাগধারা, এককথায় প্রকাশ থেকে প্রশ্ন থাকে। সাহিত্য অংশে গল্প বা উপন্যাসের রচয়িতা, কবিতার ও কবির নাম থেকে প্রশ্ন আসে।

ইংরেজি জোর দিতে হবেঃ  ইংরেজি গ্রামারে Right forms of verb, Tense, Preposition, Parts of Speech, Voice, Narration, Spelling, Sentence Correction-এর নিয়ম জানতে হবে এবং গ্রামার বইয়ের উদাহরণ থেকে চর্চা করতে হবে। মুখস্থ করতে হবে Phrase and Idoims, Synonym, Antonym ভালোভাবে জানতে হবে।

গণিতের যা জানতে হবেঃ পাটিগণিতের পরিমাপ ও একক, ঐকিক নিয়ম, অনুপাত, শতকরা, সুদকষা, লাভক্ষতি, ভগ্নাংশ, বীজগণিতের সাধারণ সূত্রাবলী থেকে প্রশ্ন থাকে। মুখে মুখে ও সূত্র প্রয়োগ করে সংক্ষেপে ফল বের করা জানতে হবে হবে।

যাতে প্রশ্ন দেখা মাত্রই সূত্র প্রয়োগ করে ফলাফল পাওয়া যায়। জ্যামিতিতে প্রস্তুতির জন্য ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বর্গক্ষেত্র, রম্বস, বৃত্ত ইত্যাদির সাধারণ সূত্র ও সূত্রের প্রয়োগের দিকে নজর দেওয়া উচিত। মাধ্যমিক স্তরে পাঠ্যবই, বিশেষ করে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির গণিত বই অনুসরণ করা ভালো হবে।

সাধারণ বিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক  থেকে যা জানতে হবেঃ প্রশ্ন বেশি আসে বাংলাদেশ অংশে বাংলাদেশের শিক্ষা, ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ, ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু, সভ্যতা ও সংস্কৃতি, বিখ্যাত স্থান, বাংলাদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থা, অর্থনীতি, বিভিন্ন সম্পদ, জাতীয় দিবস থেকে প্রশ্ন আসে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রশ্ন যেমন, সংস্থা, দেশ, মুদ্রা, রাজধানী, দিবস, পুরস্কার ও সম্মাননা থেকে খেলাধুলা প্রশ্ন আসে। সাধারণ বিজ্ঞান থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন যেমন, রোগব্যাধি, খাদ্যগুণ, পুষ্টি, ভিটামিন থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। নিয়মিত বেশি বেশি পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করলে সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নের উত্তর সহজ হবে, এবং বিগত পরীক্ষায় অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি থেকে প্রশ্ন করা হয়ে থাকে।

 

Leave a Comment