ফলিক এসিডের উপকারিতা- ফলিক এসিড যুক্ত খাবার কোনগুলা জানুন।

ফলিক এসিড বা ভিটামিন B9 বা ভিটামিন বিসি বা ফোলেট মানবদেহে এটির একটি প্রাকৃতিকভাবে উপস্থিত রূপ, যা টেরিল-এল-গ্লুটামিক অ্যাসিড, টেরিল এল-গ্লুটামেট এবং টেরিলমোনোগ্লুটামিক অ্যাসিড নামেও পরিচিত। যা পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন B9 এর একটি রূপ। যদিও ফলিক অ্যাসিড নিজেই জৈবিকভাবে প্রতিক্রিয়াশীল নয়, এটি ডাইহাইড্রোফলিক এসিডে রূপান্তরিত হওয়ার পরে এটির টেট্রাহাইড্রোফোলেট এবং অন্যান্য উপজাতের কারণে মানবদেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ফলিক এসিডকে ফোলেট নামেও অভিহিত করা হয়। নিম্নে ফলিক এসিডের উপকারিতা ও ফলিক এসিড যুক্ত খাবার কোনগুলা চলুন জেনে আসি এমন আরো স্বাস্থ্য বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে BDnextweb.com এই লিংকে করুন,

ফলিক এসিডের উপকারিতা

ফলিক এসিডের উপকারিতা

ফলিক এসিড ডিএনএ গঠন বা সংশ্লেষণ, কোষ বিভাজন এবং ডিএনএ মেরামতে সাহায্য করে। এটি ক্রমাগত কোষ বিভাজন এবং কোষ বৃদ্ধির জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তাই গর্ভাবস্থা এবং নবজাতকের জন্য ফলিক এসিড অপরিহার্য। লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করতে এবং রক্তাল্পতা প্রতিরোধ করতে শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়েরই এই ভিটামিনের প্রয়োজন হয়।

খাবারে ফলিক এসিড খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে গর্ভবতী মা বা যারা সন্তান নেওয়ার কথা ভাবছেন তাদের জন্য। ফলিক এসিড যেমন মেয়েদের প্রজনন স্বাস্থ্য রক্ষা করে, তেমনি এটি গর্ভধারণ সম্পন্ন করতেও সাহায্য করে। বিভিন্ন খাবার যেমন- ব্রকলি, পালং শাক, বরবটি, কলা, টমেটো, ডাল ইত্যাদি ফলিক এসিডের উৎস হিসেবে কাজ করে।

প্রচুর সংখ্যক গবেষণায় দেখা গেছে যে ফলিক এসিড এবং ভিটামিন E-6 এবং E-12 এর অনুপস্থিতিতে হোমোসিস্টাইন নামক এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ শরীরে জমা হয়। মানবদেহে অতিরিক্ত হোমোসিস্টাইন হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। রক্তনালীগুলির নমনীয়তা ও হ্রাস করে, যার ফলে রক্ত ​​প্রবাহ ব্যাহত করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহ হ্রাস করে। রক্তনালীতে কোলেস্টেরল জমে যাওয়াকে এথেরোস্ক্লেরোসিস বলে। রক্তে হোমোসিস্টাইনের মাত্রা বৃদ্ধি এবং এথেরোস্ক্লেরোসিস বৃদ্ধির মধ্যে যোগসূত্র বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। পর্যাপ্ত ফলিক এসিড গ্রহণ হোমোসিস্টাইনের মাত্রা স্বাভাবিক রেখে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস প্রতিরোধ করতে পারে। এভাবে পরিমিত পরিমাণে ফলিক এসিড গ্রহণের মাধ্যমে রক্তে হোমোসিস্টাইনের মাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই প্রবণতাগুলো কমানো যায়, যা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।

ফলিক এসিড যুক্ত খাবার কোনগুলা

চলুন জেনে আসি ফলিক এসিড যুক্ত খাবার কোনগুলা,  সবুজ পাতা সমৃদ্ধ খাবার যেমন- পুঁইশাক, পাটশাক, মুলাশাক, সরিষা শাক, পেঁপে, লেবু, ব্রকলি, মটরশুঁটি, শিম, বরবটি, বাঁধাকপি, গাজর  ইত্যাদি। আম, জাম, লিচু, কমলা, আঙ্গুর, স্ট্রবেরি ইত্যাদি। বিভিন্ন ধরনের ডাল যেমন- মসুর, মুগ, মাষকালাই, বুটের ডাল ইত্যাদিতে ফলিক এসিড প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। এছাড়াও রয়েছে সরিষা, তিল, তিসি, সূর্যমুখীর বীজ, লাল চাল, লাল আট ইত্যাদি। তাই ফলিক এসিড নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

এছাড়াঃ

শাকসবজি : পালংশাক, পাতা কপি,মেথির পাতা, মূলো পাতা, সবুজ মটরশুঁটি, ভূট্টা, ফুলকপি, ওলকপি পাতা, বীট, সরিষার সবুজ শাক, ঢেরস, ব্রোকলি, শতমূলী,

ফল : কমলা লেবু, স্ট্রবেরি, ফুটি , তরমুজ ,কলা, আনারস, রাস্পবেরি, পাকা পেপে, ডালিম, পেয়ারা, অ্যাভোকাডো,

বাদাম এবং শুকনো ফল : কাজুবাদাম, কাঠবাদাম , চিনাবাদাম, আখরোট, তিল বীজ,

শুঁটি : সোয়াবিন, বরবটি, শিম, শুকনো মটরশুটি, চানা,

দানাশস্য : রান্না করা সাদা চাল, গোটা শস্যের আটা, সুজি, ওটস, উৎকৃষ্ট ময়দা,

মাংস : ডিমের সাদা অংশ, লিভারও খুব ফোলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ, তবে গর্ভবতী হওয়াকালীন বা গর্ভবতী হওয়ার চেষ্টা করাকালীন এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় না কারণ এটি ভিটামিন এ–তে অত্যন্ত সমৃদ্ধ, এটি বেশি খেলে শিশুর জন্মগত ত্রুটি হতে পারে।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ  সবুজ পাতাজাতীয় শাকসবজি, টক ফল ও ডাল জাতীয় খাবারে ফলিক এসিড প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান থাকে।

 

ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবার, ফলিক এসিডের উপকারিতা, ফলিক এসিড ট্যাবলেট এর উপকারিতা, ফলিক এসিডের অভাবে কি হয়, ফলিক এসিড আছে কোন খাবারে, ফলিক এসিডের উৎস, ফলিক এসিড এর উৎস, ফলিক এসিড এর কাজ কি, ফলিক এসিড এর উপকারিতা, folic acid এর কাজ কি , ফলিক এসিড কেন খায়, ফলিক এসিড কোন খাবারে পাওয়া যায়, ফলিক এসিড কোন খাবারে থাকে, ফলিক এসিড কিসে পাওয়া যায়, ফলিক এসিড কিসে থাকে, ফলিক এসিড খাওয়ার উপকারিতা, ফলিক এসিড খাবার, ফলিক এসিড খেলে কি হয়, গর্ভাবস্থায় ফলিক এসিড খাওয়ার নিয়ম, ফলিক এসিড জাতীয় খাবার, ফলিক এসিড থাকে কোন সবজিতে, ফলিক এসিডের অপর নাম, ফলিক এসিড ফুড, ফলিক এসিড যুক্ত ফল, ফলিক এসিড কোন কোন ফলে আছে, ফলিক এসিড ভিটামিন, ফলিক এসিড কোন ভিটামিন, ফলিক এসিড যুক্ত খাবার, ফলিক এসিড যুক্ত খাবার কি কি,

Leave a Comment