ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু করব? শুরু থেকে জানুন

ইন্টারনেট থেকে অনলাইন ইনকাম করার অনেক মাধ্যম বা উপায় রয়েছে তার মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং ও পড়ে। এখন ফ্রিল্যান্সিং  (freelancing business) করে অনেকেই ঘরে বসে হাজার হাজার টাকা আয় করছে। ফ্রিল্যান্সিং হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে আপনি আপনার জানা কাজ বা দক্ষতা ব্যবহার করে অন্যদের জন্য কাজ করেন।

ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) মানে হলো, যেই কাজের বিষয়ে বিশেষ অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা আপনার আছে, তার সাথে জড়িত কাজ অন্যদের জন্য করা এবং তার বিনিময়ে টাকা নেয়া। আপনি যদি অনলাইন কাজ জানেন তাহলে অন্যরা তাদের প্রয়োজন হিসেবে আপনাকে কাজ দিবে এবং আপনার কাজ নির্ধারিত সময়ে সেই কাজ তাকে করে দিতে হবে।

সহজ ভাষায় বোঝাতে গেলে বলা যায় কোনো কোম্পানির বা ব্যক্তির অধীনে না থেকে নিজের সময় সুবিধা মতন মুক্তভাবে কাজ করাকেই ফ্রিল্যান্সিং বলে।

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু করব

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু করব

প্রথম ধাপঃ

প্রথমিক অবস্থায় ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য আপনার বেশকিছু জিনিস দরকার হয়, সে গুলা নিম্নে দেওয়া হলো।

১) কম্পিউটার

২) ইন্টারনেট কানেকশন

৩) English এর পর্যাপ্ত দক্ষতা

৪) কাজের প্রতি দক্ষতা

এই প্রয়োজনীয় জিনিস যদি না থাকে তাহলে আপনি কোন ভাবেই ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেনা।  কারণ এই গুলো হলো ফ্রিল্যান্সিং এর প্রথমিক অবস্থার প্রয়োজনীয় জিনিস।

দ্বিতীয় ধাপঃ

ফ্রিল্যান্সিং হিসেবে কাজ শুরু করার জন্য আপনার শুরু থেকে স্টেপ বাই স্টেপ চেষ্টা করতে হবে।

১) যেকোন নির্দিষ্ট কাজের উপর আপনার আপনার ধারণা থাকতে হবে।

২) ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য নিজের একটি একাউন্ট থাকতে হবে।

৩) কাজ বিনিময় শিখুন

৪) কাজের অর্থ বিনিমান চার্য নির্ধারন করুন

৫) সুন্দর ভাবে কাজ করুন

৬) নির্ধারিত সময় এর মধ্যে কাজ ডেলিভারি দিন

 

নির্দিষ্ট কাজের ধারনাঃ

বিভিন্ন ধরণের কাজ করে ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে আয় করা যায়। কিন্তু আপনি সব গুলানিয়ে কাজ করতে গেলে হবে না । আপনি যেটা ভালো পারেন সেটা নিয়ে কাজ করুন। কারণ সকল মালিকেরা সব সময় ভালো কিছু চায়। আপনি যে কাজ যতো ভালো করবেন ততো আপনি কাজ পাবে। আপনি যদি  সে বিষয়ে দক্ষ্য না হন তাহলে আপনি বেশি কাজ পাবেন না। কেননা, আপনার কাজ পছন্দ না হলে পরেরবার থেকে কাজ পেতে অসুবিধা হবে।

ফ্রিল্যান্সিং একাউন্টঃ 

আপনি সেক্টর নিয়ে কাজ করবেন সেটা ঠিক করার পর আপনার সেটার উপরে একটি ফ্রিল্যান্সিং একাউন্ট তৈরি করতে হবে। কিন্তুএখন ভাবছেন যে আপনি কোন কোম্পানিতে একাউন্ট খুলবেন। তাই চলুন জেনেনি কোম্পানির ওয়েবসাইড গুলো।

ওয়েবসাইড গুলো হলোঃ

উক্ত কোম্পানিতে একাউন্ট খুলে আপনি নিজে দেশ- বিদেশ থেকে কাজ পেয়ে ভালো অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং রেজিস্ট্রেশনঃ

রেজিস্ট্রেশনের সময় ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা, ইমেইল ইত্যাদি সঠিকভাবে দিতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের একটি ধাপ হল একটি প্রোফাইল/রিজুম তৈরি করা যেখানে আপনি যে ক্ষেত্রগুলিতে দক্ষ তা উল্লেখ করতে পারেন। এখানে আপনি আপনার আগের কাজের অভিজ্ঞতা, ওয়েবসাইট লিঙ্ক ইত্যাদি দিতে পারেন। মনে রাখবেন, আপনি যত বেশি তথ্য আপনার প্রোফাইল সাজাতে পারবেন, আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। তবে কোনো মিথ্যার আশ্রয় না নিয়ে বিষয়বস্তু ভালোভাবে তুলে ধরতে হবে। কোন পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সময়সীমা, বাজেট এবং অন্যান্য সম্পর্কিত বিষয়গুলি জানা গুরুত্বপূর্ণ। আর ক্লায়েন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই যত্নবান হতে হবে। যদি সম্ভব হয়, সেই ক্লায়েন্টের পূর্ববর্তী কোনো রিভিউ দেখে নিন। কারণ অনেক সময় ক্লায়েন্ট ট্রিক করে প্রতারণা করতে পারে।

চার্য নির্ধারনঃ

চার্য নির্ধারনের মাধ্যমে হলো, আপনি ভালো কাজ করে দিবেন কিলাইন্ডদের কম টাকাতে এতে আপনার কিলাইন্ডরা অনেক খুশি হবে এবং আপনার দিয়ে কাজ করাবে। কম টাকা নিলে আপনি ভালো কাজ পাবেন এবং ভালো কিলাইন্ড ও পাবেন।

কাজ বিড করাঃ

সফলভাবে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার পর, আপনি এখন বিড করা শুরু করতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলো প্রতি মুহূর্তে নতুন নতুন কাজ আসছে। আপনার দক্ষতা অনুযায়ী প্রতিটি কাজ দেখতে থাকুন। প্রথম কয়েকদিন বিড করার দরকার নেই। কয়েকদিনের জন্য এই ওয়েবসাইটটি দেখুন। আপনি ওয়েবসাইটে বিভিন্ন নিয়ম এবং সহায়ক নিবন্ধ পড়তে পারেন। একটা কথা মনে রাখতে হবে, তাড়াতাড়ি কাজ পাওয়া সহজ নয়। তাই আপনাকে ধৈর্য ধরে বিড করতে হবে। প্রথম কাজ পেতে ১০ থেকে ২০ দিন সময় লাগতে পারে। কয়েকটি কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর, আপনাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না। তাহলে ক্লায়েন্টরা আপনাকে খুঁজে পাবে।

সুবিধাঃ

ফ্রিল্যান্সিং এর যে সুবিধাগুলোর জন্য সবাই আগ্রহী হয় তাহল আপনার নিজের বস হওয়ার সুযোগ! যখন খুশি কাজ করুন, যখন খুশি থামুন। কাজের স্বাধীনতা আছে, কী করবেন, কার সঙ্গে কাজ করবেন তা আপনার ব্যক্তিগত ইচ্ছা। যেহেতু আপনি কাজের উপর নির্ভর করে বেতন পান, এটি উত্পাদনশীলতা বাড়ায়। আপনি যত বেশি লোকের সাথে কাজ করবেন, আপনার সম্প্রদায় বৃদ্ধি পাবে। যেহেতু আপনাকে প্রতিদিন একই অফিসের কাজ করতে হবে না, আপনি অবশ্যই প্রতিদিন নতুন কাজের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন তাই এটি আপনার দক্ষতা বাড়াবে।

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে করা যায়, ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবো কিভাবে,কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবো, ফ্রিল্যান্সিং বলতে কি বুঝায়, ফ্রিলান্সিং কিভাবে শুরু করব, ফ্রিল্যান্সিং টিউটোরিয়াল, ফ্রিল্যান্সিং রেজিস্ট্রেশন কিভাবে করা যায়,

Leave a Comment