ব্লাড ডোনেট করার উপকারিতা-রক্তদানের উপকারিতা কি কি

স্বেচ্ছায় কোন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষ থেকে রক্ত দেবার প্রক্রিয়াকে ব্লাড ডোনেট বা রক্তদান বলে থাকে। রক্তদাতাকে অবশ্যই পূর্ণবয়স্ক অর্থাৎ ১৮ বছর বয়সের বেশি হতে হয়। প্রতি তিন মাস অন্তর প্রত্যেক সুস্থ ও প্রাপ্ত বয়স্ক নারী – পুরুষ নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে রক্তদান করতে পারেন। রক্তদান স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। রক্তদান করার সাথে সাথে শরীরে ‘বোন ম্যারো’ নতুন কোষ তৈরি করতে উদ্দীপিত হয়। রক্ত দান কারীর রক্তদানের ২ সপ্তাহের মধ্যেই নতুন রক্ত কণিকা তৈরী হয় এবং ঘাটতি পূরণ হয়। বছরে ৩ বার রক্ত দান করা আপনার দেহের লাল রক্ত কোষকে প্রাণবন্ত করে তোলে এবং একই সাথে নতুন কণিকা গঠনের হার বাড়িয়ে তোলে। রক্ত দান কারীর রক্তদানের মাত্র ৪৮ ঘন্টার মধ্যে শরীরে রক্তের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে যায়। রক্তদান করলে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক ভাবে বিভিন্ন ধরনের উপকার হয়ে থাকে। ব্লাড ডোনেট করার উপকারিতা সম্পর্কে কিছু তথ্য নিন্মে প্রদান করা হল,

ব্লাড ডোনেট করার উপকারিতা

ব্লাড ডোনেট করার উপকারিতা

রক্তদানের উপকারিতা কি কিঃ

১) রক্তদানের প্রথম এবং প্রধান কারণ, আপনার দানকৃত রক্ত আরেকজন মানুষের জীবন বাঁচাবে। এর থেকে বড় কারণ আর কি হতে পারে,

২) নিয়মিত রক্তদান করলে হার্ট ভালো থাকে এবং হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়,

৩) যারা বছরে দুই বার রক্ত দেয়, অন্যদের তুলনায় তাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটা কম থাকে,

৪) বছরে তিনবার রক্তদান করলে শরীরে লোহিত কণিকা গুলির প্রাণবন্ততা বাড়িয়ে তোলে ও নতুন কণিকা তৈরি করতে সাহায্য করে,

৫) রক্তে কোলস্টেরলের উপস্থিতি কমাতে সাহায্য করে,

৬) নিয়মিত রক্তদাতাদের ক্ষেত্রে ফুসফুস, লিভার, কোলন, পাকস্থলী ও গলার ক্যান্সারের ঝুঁকি  অনেকাংশে কমে যায় এটি পরীক্ষিত আছে,

৭) নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে নিজের শরীরে বড় কোনো রোগ যেমন- হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, সিফিলিস, এইচআইভি (এইডস) ইত্যাদি আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয় এবং জানা যায়,

৮) ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও রক্তদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে,

৯) মুমূর্ষু রোগীকে রক্ত দিলে মানসিক তৃপ্তি মেলে।

১০) রক্তদান ধর্মীয় দিক থেকে অত্যন্ত পুণ্যের বা সওয়াবের কাজ। পবিত্র কোরআনের সূরা মায়েদার ৩২ নং আয়াতে উল্লেখ আছে, ‘একজন মানুষের জীবন বাঁচানো সমগ্র মানব জাতির জীবন বাঁচানোর মতো মহান কাজ,

 

কারা ব্লাড ডোনেট/ রক্তদান করতে পারবেন?

১) ১৮ বছর থেকে ৬০ বছরের যেকোনো সুস্থদেহের মানুষ রক্ত দান করতে পারবেন।

২)  রক্তদানের চার (৪) মাস পর রক্তদান করা যাবে,

৩) কোন বিশেষ ধরনের ঔষধ যেমন- এ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করলে রক্ত দিতে পারবেন,

৪)  আপনাকে চর্মরোগ মুক্ত হতে হবে।

৫) শারীরিক এবং মানসিক ভাবে সুস্থ ব্যক্তি রক্ত দিতে পারবেন,

৬) আপনার ওজন অবশ্যই ৫০ কিলোগ্রাম কিংবা তার বেশি হতে হবে,

৭) রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ, রক্তচাপ ও শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলে,

৮) জীবাণুঘটিত কোনো রোগী যেমন- ক্যান্সার, হিমোফিলিয়া, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি না থাকলে রক্ত দিতে পারবেন,

৯) কিছু রোগ আগে যেগুলোতে আক্রান্ত রোগীরা নির্দিষ্ট সময় পর রক্ত দিতে পারেন। যেমন, টাইফয়েডে আক্রান্ত রোগী-১২ মাস, ম্যালেরিয়ার রোগী-তিন মাস পর রক্ত দিতে পারবেন।

 

কারা ব্লাড ডোনেট/ রক্তদান করতে পারবেন না?

১) জীবাণুঘটিত কোনো রোগী যেমন- ক্যান্সার, হিমোফিলিয়া, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি থাকলে ।

২) এইচআইভি বা এইডস আক্রান্তরা রোগী ।

৩) অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট রোগী

৪) যাঁরা বারবার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়।

৫) গত তিন মাসের মধ্যে রক্তদান করেছেন এমন কোন ব্যাক্তি।

৬) মাদক সেবনকারী ব্যাক্তি।

৭) হেপাটাইটিস-বি ও সি-র এন্টিজেন পজিটিভ যাঁদের। পরবর্তী সময় তা নেগেটিভ হলেও রক্ত দেওয়া যাবে না।

৭) রক্তবাহিত জটিল রোগ যেমন- সিফিলিস , গনোরিয়া, হেপাটাইটিস , এইডস, চর্মরোগ , হৃদরোগ , ডায়াবেটিস , টাইফয়েড এবং বাতজ্বর থাকলে।

৮) গর্ভবতী মহিলাদের রক্ত দেওয়া যাবে না।

৯) যাঁদের শরীরের কোনো স্থানের গ্ল্যান্ড (লিম্ফনোড) ফুলে গেছে। বিশেষ করে ঘাড়, গলায়, হাতের নিচের গ্লান্ড।

 

রক্তদানের পর খাবারঃ

রক্তদানের পর যেসব খাবার খাবেন তা হল, দুই গ্লাস পানি বা জুস খাবেন কারন এ গুলা খেলে রক্তের জলীয় অংশটুকু পূরণ করে। এবং সেই সাথে খাবারে কলিজা, বিভিন্ন ধরনের কচু, ডিম, দুধ রাখতে হবে তাহলে আপনি দ্রুত দুর্বলতা কাটিয়ে সুস্থ হয়ে যাবেন।


ব্লাড ডোনেট করার উপকারিতা, রক্ত ডোনেট করার উপকারিতা, রক্তদানের উপকারিতা, রক্তদান নিয়ে কিছু কথা, রক্তদানের পর খাবার, রক্তদান স্ট্যাটাস, রক্তদান অর্থ কি, রক্তদানের আগে ও পরে করনীয়, রক্তদানের আগে করণীয়, রক্তদান উপকারিতা, রক্তদান কি, কেন রক্তদান করবেন, রক্তদান কেন করব, রক্তদান করার উপকারিতা, রক্তদান করলে কি হয়, রক্তদানের গুরুত্ব, রক্তদাতাদের তথ্য,  রক্তদান সম্পর্কিত কিছু তথ্য, রক্তদান নিয়ে পোস্ট, রক্তদান নিয়ে কথা, রক্তদানের ফজিলত,রক্তদান বিষয়ে প্রতিবেদন,রক্তদাতা মানে কি,রক্তদানের যোগ্যতা,

Leave a Comment