মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা ও অপকারিতা,মিষ্টি কুমড়ার বীজের উপকারিতা কি?

সবজির মধ্যে অনিন্দ্য সুন্দর সবজি হল মিষ্টি কুমড়ার। মিষ্টি কুমড়ার আকার পেটমোটা গোল। এর ভিতরের অংশ পাকা অবস্থায় উজ্জ্বল কমলা বর্ণের হয়ে থাকে। এতে ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন আছে। সব বয়সী মানুষ এই সবজি বিভিন্ন ভাবে খেতে পছন্দ করে যেমন-  ভর্তা, ভাজি ভাজি ও বিভিন্ন রকমের রান্না। এটি খেতে একটু মিষ্টি স্বাদযুক্ত। এই কুমড়া আসলে অনেক গুণাগুণ ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ভিটামিনের একটি ভান্ডার। এসব গুণ না জেনে অনেকেই তরকারি হিসেবে কুমড়া পছন্দ করেন। আর মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা ও গুণাগুণের তালিকা জানলে পছন্দের মাত্রা নিশ্চয়ই বাড়বে কিন্তু এর সামান্য কিছু আপকারিতা আছে, চলুন এর

মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা:  স্বাস্থ্যগত দিকদিয়ে মিষ্টি কুমড়ার তুলনা নাই। তাই চলুন মিষ্টি কুমড়ার কিছু উপকারিতা সম্পর্কে জেনে আসি;

চোখের উপকারিতা: মিষ্টি কুমড়ায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, যা চোখে ছানি পড়া ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। খাদ্য তালিকায় নিয়মিত এ সবজিটি রাখার ফলে আপনার দৃষ্টিশক্তি আরও প্রখর হবে এবং চোখের ছোটখাটো কিংবা মারাত্মক কোন সমস্যায় পড়তে হবে না।

ত্বকের উপকারিতা: ত্বকের সুরক্ষায় মিষ্টি কুমড়ার ভূমিকা অসামান্য। ত্বক সুরক্ষাকারী উপাদান বিটা ক্যারোটিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে এ সবজিতে, যা আপনার ত্বককে আরও মসৃণ ও কমনীয় করে তোলে। এতে ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায় ত্বকে সহজে বলিরেখা বা ভাঁজ পড়বে না। মিষ্টি কুমড়ায় ভিটামিন সি থাকায় ত্বক হয় লাবণ্যময়। এতে আলফা ক্যারোটিন জাতীয় উপাদান থাকার ফলে বার্ধক্যও আসে দেরিতে।

চুলের উপকারিতা: গবেষণা অনুসারে, কুমড়া খাওয়া চুলের জন্য উপকারী হতে পারে। কুমড়ো পুষ্টিগুণে ভরপুর বলে পরিচিত। এতে উপস্থিত ভিটামিন ও মিনারেল চুলের জন্যও ভালো করে। এটি একটি গবেষণা পত্রে লেখা হয়েছে যে কুমড়া সেবন চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে। এর ভিত্তিতে বলা যায় কুমড়া চুলের জন্য ভালো।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: মিষ্টি কুমড়া অন্যান্য রোগের পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। 100 গ্রাম মিষ্টি কুমড়াতে 340 মিলিগ্রাম পটাসিয়াম পাওয়া যায়। গবেষণা অনুসারে, পটাসিয়াম গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসার জন্য বেশ কার্যকরি।

ওজন কমাতে: মিষ্টি কুমড়ায় কোন সম্পৃক্ত চর্বি বা কোলেস্টেরোল নেই এবং এতে ক্যালোরির মাত্রাটাও সামান্য। এতে রয়েছে পুষ্টিকর আঁশ। এ সবজিটি কোলেস্টেরোল নিয়ন্ত্রণ করতে ও ওজন কমাতে বিশেষভাবে সহায়তা করে।

দাঁত ও হাড়েরউপকারিতা: মিষ্টি কুমড়ার শাঁসালো অংশে এবং এর বীজ বা দানায় প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম থাকায় এটি হাড় ও দাঁতের ক্ষয়রোধ করে। নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া খাওয়ার অভ্যাস আপনার দাঁত ও হাড়কে করবে আরও মজবুত।

রোগ প্রতিরোধে: মিষ্টি কুমড়ায় রোগ প্রতিরোধকারী বহু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। হার্টের অসুখ, হাইপারটেনশন, বাত ইত্যাদি মারাত্মক সব রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর এ সবজিটি। বয়সজনিত কারণে মাংসপেশীর যে রোগ হয়, তাও প্রতিরোধ করে মিষ্টি কুমড়া।

মিষ্টি কুমড়া খাওয়ার পরিমাণ: কুমড়া খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা উভয়ই রয়েছে। এই কারণে, মিষ্টি কুমড়া সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত। বলা হয় প্রতিদিন আধা কাপ মিষ্টি কুমড়া খাওয়া যেতে পারে। হ্যাঁ, কুমড়া খাওয়ার উপকারিতা পেতে, ডায়েটিশিয়ানের কাছ থেকে সঠিক পরিমাণে জিজ্ঞাসা করার পরেই এটিকে ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করুন।

 

মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা ও অপকারিতা: সীমিত পরিমাণে খাওয়া হলেই মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা পাওয়া যায় কিন্তু বেশি পরিমানে খেলে অপকার হতে পারে। মিষ্টি কুমড়ার খাওয়াতে উপকারিতা থেকে অপকারিতা অনেক কম। চলুন আমরা মিষ্টি কুমড়া খাওয়ার অপকারিতাগুলো জেনে আসি।

মিষ্টি কুমড়াতে ভিটামিন-এ এর একটি ভাল উৎস।  এই উপকারী ভিটামিনের পরিমাণ শরীরে অতিরিক্ত হলে গর্ভাবস্থায় মায়ের সমস্যা ও অনাগত সন্তানের জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে।

এটি বেশি খেলে অ্যালার্জি হতে পারে এছাড়া বেশি কুমড়ো খাওয়ার পর গ্যাস বা পেট ফাঁপা হওয়ার মতো উপসর্গ অনুভূত হয়, তাহলে এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মিষ্টি কুমড়ার বীজের উপকারিতা

মিষ্টি কুমড়ার বীজের উপকারিতা

ভারতের ডি কে পাবলিশিং হাউসের একটি বই ‘হিলিং ফুডস’-এ বলা হয়েছে, মিষ্টি কুমড়ার বীজ ভিটামিন বি, ম্যাগনেশিয়াম, লোহা ও প্রোটিনের ভালো একটি উৎস। বীজ গুলোতে অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড উচ্চমাত্রায় রয়েছে। এই ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে অস্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে। আপনি মিষ্টি কুমড়ার বিচি কাঁচা খেতে পারেন কিংবা একটু চুলাই টেলে নিয়েও খেতে পারেন, কিংবা কুমড়োর বিজ দিয়ে কেক, স্যুপ ও সালাদ বানিয়েও খেয়ে নিতে পারেন।

মিষ্টি কুমড়ার বীজের উপকারিতা ও নানা গুনাগুণ :- 

  • ১০০ গ্রাম মিষ্টি কুমড়ার বীজ থেকে ৫৬০ ক্যালরি পাওয়া যায়।
  • কুমড়োর বীজেতে আছে সেরোটোনিন যা আপনাকে সুন্দর ঘুম নিশ্চিত করে।
  • ম্যাগনেশিয়ামের উপস্থিতির কারণে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  • মিষ্টি কুমড়ার বীজেতে আছে ভিটামিন বি, ম্যাগনেশিয়াম, প্রোটিন ও আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব খাদ্য উপাদান যা আপনার শরীরকে ভালো রাখতে সাহায্য সহযোগিতা করে।
  • মিষ্টি কুমড়ার বীজে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে প্রচুর যা উপাদান হৃদযন্ত্রের জন্য খুব উপকারী।
  • এতে আছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় চর্বি, ফাইবার এবং বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
  • পেশির জ্বালাপোড়ার অনুভূতি কমায় এ ছাড়া বাতের ব্যথাও কমায়।
  • এতে ম্যাগনেশিয়াম থাকে যা রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে করে।
  • ফ্যাটি অ্যাসিড, যা খারাপ রক্তের কোলেস্টেরল কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়।
  • এতে এমন এক অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিন সি আছে যা চুলের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *