স্বাস্থ্য কর্নার

স্ট্রোক রোগের খাবার তালিকা- স্ট্রোক পর্ব ০৩

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে,  স্ট্রোক প্রতিরোধ করতে ওষুধের চেয়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন বেশি গুরুত্বপুর্ন। নিয়মিত ব্যায়াম ছাড়াও খাবার গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করে।। প্রতিটি দেশের ৪র্থ ভাগ লোক স্ট্রোক রোগে মারা যায় এবং ৩য় ভাগ লোক অসুস্থ হয়ে থাকে । প্রতিটা দেশের একটি বড় সমস্যা হল এই স্ট্রোক।স্ট্রোক দেহের অন্য় কোন রোগ না, এটি মস্তিষ্কের রোগ। মস্তিষ্কের রক্ত নালী দুর্বল হয়ে রক্ত সরবরাহের ঘাটতি দেখা দেয় এবং কোষ গুলো নষ্ট হয়ে দুর্ঘটনা দেখা দেয় আর এটি হল স্ট্রোক।গবেষণা করে দেখা গেছে, বিশ্বে প্রতি ৬ সেকেন্ডে একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই স্ট্রোক রোগের খাবার তালিকা জেনে রাখা একান্ত প্রয়োজন। চলুন এবার জেনে আসি স্ট্রোক রোগীদের কোন খাবার খেতে হবে।

স্ট্রোক রোগের খাবার তালিকা

স্ট্রোক রোগের খাবার তালিকা

স্ট্রোক একটি জটিল রোগ। প্রতি বছরে বিশ্বে প্রায় ৫০-৭০ লক্ষ লোক মৃত্যবরণ করেন।প্রতিবন্ধি হয়ার বড় কারন হল স্ট্রোক। তাই স্ট্রোক মানে মৃত্য অথবা দূরভোগ,কারন স্ট্রোকের পর যদি বেছে থাকে তাহলে তাকে অনেক কষ্ট নিয়ে বাচতে হয়।তাই আমরা চাইলেই সুষম কাবারের মাধ্যমে ৮০%-৯০% স্ট্রোক প্রতিরোধ করতে পারি ।তাই চলুন জেনেনি স্ট্রোক রোগের খাবার তালিকাঃ-

বাদামঃ-
বাদাম একটি উপকারি খাবার । এই খাবারে প্রচুর পরিমানে কোলেস্টেরল কমে,আর কোলেস্টেরল কমলে আমরা স্ট্রোক থেকে মুক্তি পেতে পারি ।আমরা যদি দিনে ৩০-৪০ গ্রাম বাদাম খাই তাহলে তাহলে আমাদের স্ট্রোক ঝুকি ৬০-৮০ ভাগ কমে যাবে।তাই আমাদের প্রতিদিন কম-বেশি বাদাম খাবার চেষ্টা করব।

রসুনঃ
রান্না করা রসুনের থেকেও কাঁচা রসুনের উপকারিতা অনেক বেশি। তাই রসুনের সম্পূর্ণ উপকারিতা পেতে হলে কিছু কাঁচা রসুন খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।কাঁচা রসুন উচ্চ রক্তচাপ কমাতে দারুণভাবে সাহায্য করে।এটি খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।আর কোলেস্টেরল কমলে স্ট্রোক ঝুকি ৬০-৮০ ভাগ কমে যায়।

সবুজ শাক-সবজিঃ
আমাদের নিত্য আহারে একটি অপরিহার্য অংশ হল শাক-সবজি । শাক-সবজির বেশি খাওয়া সুস্বাস্থ্যের প্রতীক হিসেবে মানা হয়।শাকের মধ্যে সবচেয়ে আয়রণ সমৃদ্ধ হল পালং শাক। এটি খেলে এতে রক্তে আয়রণের মাএা বেড়ে যায় এবং কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।আর কোলেস্টেরল কমলে স্ট্রোক ঝুকি কমে যায়।

ভিটামিন সিঃ-
পুষ্টি বিজ্ঞানিদের তথ্যানুসারে, সাধারণত একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের রোজ ৯০ গ্রাম থেকে ৭৫ গ্রাম ভিটামিন সি প্রয়োজন হয়।শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এই ভিটামিন ।মানব দেহে ভিটামিন সি এর অনেক কাজ রয়েছে ।কোলাজেন নামক আমিষ তৈরী এবং রক্ষণাবেক্ষণে সাহায্য করে।চর্বি ও আমিষ বিপাকে সাহায্য করে।রক্ত তৈরী করার জন্য লৌহ এবং কপারকে ব্যবহৃত করতে সাহায্য ক…স্ট্রোক ঝুকি ১৯-২৫ ভাগ কমে।

টমেটোঃ
পুষ্টিতে ভরপুর টমেটো। টমেটো থেকে পাওয়া যায় থায়ামিন, নায়াসিন, ভিটামিন বি৬, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং কপার। এটি খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।প্রতিদিন সকালে খালি পেটে একটি বা দুটি টমেটো খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। এটি খেলে স্ট্রোক ঝুকি ৫৫-৭৫ ভাগ কমে যায়।

কফিঃ
শরীরে বিভিন্ন ঔষধ হিসেবে কাজ করে এই কফি। নিয়মিত কফি খেলে নানা ধরনের রোগবালাই থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।যেমন,ওজন কমে ,ডায়াবেটিস কমে,ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় ,স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় ইত্যাদি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।বিশেষ করে নিয়মিত ব্ল্যাক কফি পান করলে রক্তচাপ বাড়লেও আবার ঠিক হয়ে যায়। দৈনিক দুই থেকে তিন কাপ ব্ল্যাক কফি পান করলে স্ট্রোকসহ হৃদযন্ত্রের অন্যান্য সমস্যার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

গ্রিন টিঃ
গ্রীন টি হল সবথেকে উপকারী পানীয় দ্রব্য।আগে ভারতে এটি ওষুধ হিসাবে ব্যবহার হত। শরীরের বিভিন্ন সমস্যা যেমন ক্যানসার থেকে শুরু করে ডায়বেটিস।আবার রক্ত চাপ ঠিক রাখে ও কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।আর কোলেস্টেরল কমলে স্ট্রোক ঝুকি কমে যায়। দিনে ২-৩ কাপ গ্রিন টি খেলে বিভিন্ন সমস্য থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আরোযেকোনো ত্বকের সমস্যা,হার্টের সমস্যা এছাড়াও ত্বক ও চুলকে সুন্দর রাখতে এটি দারুণ কাজ করে।

কলাঃ
কলা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার। পাকা কলা রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সাহায্য করে আয়রন থাকার কারণে।কলার মধ্যে প্রচুর পরিমান পটাশিয়াম থাকে।পটাশিয়াম এ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এতে হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। গবেষণায় বলা হয়, প্রতিদিন দুটি কলা খেলে ৪০-৫০ শতাংশ হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

কুমড়ার বীজঃ
কুমড়ার বীজ এ প্রচুর পরিমানে ভিটামিন বি, ম্যাগনেশিয়াম, লোহা ও প্রোটিনের থাকে এবং এই বীজে ফ্যাটি অ্যাসিড উচ্চমাত্রায় রয়েছে।এই ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে অস্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে।স্ট্রোক কমানোর জন্য প্রতিদিন আমাদের ১০-১২ টি কুমড়ার বীজ খাওয়া অতি জররী।

সামুদ্রিক মাছঃ
মিঠা পানির মাছের তুলনায় সামুদ্রিক মাছের পুষ্টি বেশি।সামুদ্রিক মাছে প্রচুর প্রোটিন থাকাই দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণে এর ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ।সামুদ্রিক মাছের নানা উপকারিতা আছে। মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে এর ভূমিকা আছে।সামুদ্রিক মাছে রয়েছে ওমেগা-৩ নামক ফ্যাটি এসিড যা হৃদরোগ এবং স্ট্রোক প্রতিরোধ করে। স্ট্রোক কমানোর জন্য প্রতিদিন আমাদের সামুদ্রিক মাছ খাওয়া অতি জররী।

 

মিষ্টি আলুঃ
মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে।মিষ্টি আলু ভিটামিন এ, সি, বি২, বি৬, ডি, ই এবং বায়োটিনের মত ভিটামিনে সমৃদ্ধ।মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ভূমিকা রাখে।এটি খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।আর কোলেস্টেরল কমলে স্ট্রোক ঝুকি ৪০-৫০ ভাগ কমে যায়।

 

 


স্ট্রোক রোগীর খাবার ,স্ট্রোক রোগীর খাবার তালিকা ,স্ট্রোকের রোগীর খাবার তালিকা,স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়,স্ট্রোক পরবর্তী করণীয় ,স্ট্রোক রোগের খাবার তালিকা ,স্ট্রোক রোগের খাবার ,স্ট্রোক খাবার তালিকা ,স্ট্রোক খাবার  ,

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close